কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে ১৩ জন স্থানীয় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পৃথক ১৩টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি তিন বাড়ির মালিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা এলাকায় ক্যাম্প-১১ ও ১২–সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদারের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
যৌথ বাহিনী জানায়, অভিযানে স্থানীয়দের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাসরত ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী ও ২০০ শিশু রয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, এসব রোহিঙ্গা উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করছিলেন। আটকদের পরিচয় যাচাই শেষে নিজ নিজ নির্ধারিত শরণার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানোর জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এপিবিএন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে বসবাসের অনুমতি না থাকায় বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পৃথক মামলায় পালংখালীর শাহিনা আক্তার ও সাজু বেগমকে ১০ হাজার টাকা করে, মরাগাছতলার মো. হারুনকে ৭ হাজার, সেলিনা আক্তার ও মো. হামিদুল হককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া মো. সৈয়দ আলমকে ২০ হাজার, বালুখালীর মো. নুর হোসেনকে ৩০ হাজার, শিয়ালিপাড়ার আনোয়ারুল আলমকে ২০ হাজার এবং ময়নারঘোনার নুরুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পালংখালীর আব্দুর রশিদ ও পুঠিবনিয়ার মো. আজিজুর রহমানকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং রহমতের বিল এলাকার মো. আব্দুল রশিদকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানায়, কাউকে বাড়ি ভাড়া দিতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করতে হয় এবং চুক্তিপত্রে স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়নি। শরণার্থী শিবিরের বাইরে তাদের বসবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ- এ তথ্য স্থানীয়দের জানানো থাকলেও অনেকে তা উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। উখিয়ায় প্রায় ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে বসবাস, অবৈধ ভাড়া ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অনিয়ন্ত্রিত সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ রয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর