উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দিন শেষে সাতটি আসনে গড়ে ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার আছিয়া খাতুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বগুড়া-১ আসনে ৬১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, বগুড়া-২ আসনে ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বগুড়া-৩ আসনে ৭০ দশমিক ৫১ শতাংশ, বগুড়া-৪ আসনে ৭৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, বগুড়া-৫ আসনে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ, বগুড়া-৬ আসনে ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং বগুড়া-৭ আসনে ৬৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই হিসাবের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হয়নি।
দিনের শুরুতেই শহরের সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে সকাল সাতটার আগেই নারী-পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় করে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে আসেন। ফুলবাড়ি এলাকার ৮০ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদ জানান, আগের তিনবার ভোট দিতে পারেননি। এবার সুষ্ঠু ভোটের আশায় সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন। ৬৫ বছর বয়সী আমহেদ আলী বলেন, আগের নির্বাচনে কেন্দ্রে না গেলেও তার ভোট হয়ে গিয়েছিল। এবার নিজের ভোট নিজে দিতে সকালেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
শেরপুর উপজেলার ধনকুন্ডি শাহনাজ সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে দশটার দিকে ভোট দেন ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগম। হার্টের জটিল রোগে আক্রান্ত এই ভোটার ভাবি আম্বিয়া খাতুনের কাঁধে ভর দিয়ে কেন্দ্রে আসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ হলেও ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তিনি দৃঢ় ছিলেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলেন, পরিবারের সহায়তায় তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভা রয়েছে। সাতটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় ৯৮৩টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন, নারী ১৫ লাখ ১ হাজার ৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৫ হাজার ৪৭৮টি—এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮টি স্থায়ী ও ৩৩০টি অস্থায়ী।
নির্বাচন ও পুলিশ সূত্র জানায়, ৯৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১৯০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৩১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪৮৩টি সাধারণ কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে ছিলেন পর্যাপ্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা। প্রশাসনের দাবি, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও দিনভর জেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের একটি কেন্দ্রে অনুমতি ছাড়া নারীদের ভোটকক্ষে প্রবেশের অভিযোগে রায়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলামকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে অভিযুক্ত নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের মহিষবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। দলটির দাবি, কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয় এবং এক নেতাকে তুলে নেওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জেলায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেই সাতটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর