নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘বিষের পেয়ালা’ স্পর্শ করতে হয়নি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানকে। বরং কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে ভূমিধস বিজয়ের হাসি হাসলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজার চেয়ে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যখন জামায়াত-শিবিরসহ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী কয়েকজন নেতা ওই আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালান, তখনই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে মুখর হন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ওই আন্দোলনের তুলনা করাকে তিনি ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলে আখ্যা দেন।
এরপর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে আরও উচ্চকণ্ঠ হয়ে ওঠেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতা। প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় তিনি জামায়াত-শিবির চক্রের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতার রোষানলেও পড়েন। এমনকি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগ থেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন।
এক পর্যায়ে প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে যদি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র জয়ী হয়, তাহলে আমি বিষ খাব।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ে ভূমিধস বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে সেই ঘোষণার নাটকীয় পরিসমাপ্তি ঘটে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর