নাটোরের বড়াইগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলার নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের শুরু হয়। পরে দুপুরে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত কর্মী সাব্বিরকে মারধর করেন বিএনপি কর্মীরা। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধানাইদহ বাজারে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে সালিশ বৈঠক বসার কথা ছিল। সকালে সালিশে যাওয়ার পথে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাসিনুর রহমান, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল সৈয়দ, সাইদুল, মনির, শাকিব, সাব্বির ও নাজমা খাতুন আহত হন। অন্যদিকে বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আছাব সরকারও আহত হন। পরে বিকালের দিকে বিএনপি কর্মীরা সোবাহান হোসেন, রায়হান ও ইব্রাহিমসহ কয়েকজন জামায়াত কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
আহতদের মধ্যে জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানসহ দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাটোর-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আছাব সরকারের কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। শুধু জামায়াত করার কারণে আমাদের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে বিএনপি কর্মীরা। আমরা প্রশাসনের কাছে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম রনি বলেন, যারা হামলার ঘটনায় জড়িত তারা কেউ বিএনপি কর্মী নয়, তারা সন্ত্রাসী। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়, পারিবারিক বা সামাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ।
ঘটনার পর বিকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এবং পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজকে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সালিশ বৈঠকে যাওয়ার পথে একজন আরেকজনকে আঘাত করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর