ভেনেজুয়েলার তেল বহনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত আরেকটি ট্যাংকারে ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
পেন্টাগনের বরাতে বলা হয়, পানামা-নিবন্ধিত তেলবাহী জাহাজ Veronica III ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষিত অবরোধ অমান্য করে এলাকা ত্যাগের চেষ্টা করে। জাহাজটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে অনুসরণ করে ভারত মহাসাগরে গিয়ে মার্কিন বাহিনী তা থামায় এবং তল্লাশি চালায়।
পেন্টাগন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, “আমরা ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত জাহাজটিকে অনুসরণ করেছি, দূরত্ব কমিয়ে সেটিকে থামিয়েছি।” পোস্টে হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের জাহাজে ওঠার একটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolas Maduro-কে জানুয়ারিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী আটক করার পর থেকেই দেশটির তেল রপ্তানি ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। গত ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে ‘কোয়ারেন্টিন’ জারি করে। এরপর বেশ কয়েকটি জাহাজ ভেনেজুয়েলার উপকূল ত্যাগ করে।
গত সপ্তাহেও একইভাবে Aquila II নামের একটি ট্যাংকার আটক করার কথা জানায় পেন্টাগন। এখন পর্যন্ত অন্তত নয়টি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় প্রসঙ্গে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানান, মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণাধীন ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে।
তেলবাহী জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা TankerTrackers.com জানায়, Veronica III গত ৩ জানুয়ারি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ফুয়েল অয়েল নিয়ে ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে—যেদিন মাদুরোকে আটক করা হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে জাহাজটি রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (OFAC) ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে, জাহাজটি ইরান-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। তবে পানামা মেরিটাইম অথরিটি জানিয়েছে, জাহাজটির নিবন্ধন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই বাতিল করা হয়েছে।
পেন্টাগন এখনও স্পষ্ট করেনি যে Veronica III আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে কি না।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পরিচালিত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজের সংখ্যা প্রায় ৮০০ পর্যন্ত হতে পারে বলে এএফপির বরাতে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে শনিবার ক্যারিবীয় সাগরে মাদক বহনের অভিযোগে আরেকটি নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের অভিযানে অন্তত ১৩৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র- আলজাজিরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর