পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতের আবহে বগুড়ায় ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তারাবীর নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছে মো. মিলন (১৭) নামের এক কিশোর। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নে নিজ গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন ওই গ্রামের দিলবরের ছেলে। এই কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক। তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গত এক সপ্তাহে বগুড়ায় এটি পঞ্চম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে মিলন তারাবীর নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পবিত্র রমজান মাসে এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়রা হতবাক। পরিবারের একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে মিলনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
বগুড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় অন্তত পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকা থেকে আসছে খুনের খবর। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে কড়া নজরদারি, টহল ও তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তা যেন অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নির্বাচন শেষ হতেই কি অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঝিমিয়ে পড়েছে? পরপর এতগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডে বগুড়াবাসী এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খুন কেবল একটি পুলিশি বা রাজনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি খুন একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, একটি মায়ের বুক খালি হওয়া এবং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা কি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে ফেলছি? রমজান মাসেও যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে, তবে যাবে কোথায়? পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রশ্ন, এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়?
বিশ্লেষকরা বলছেন, বগুড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা রোধে পারিবারিক সহনশীলতা, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা। বগুড়াবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে এই হত্যার মিছিল থামুক। অন্যথায় ‘প্রতিদিন একটি খুন’–এর এই সংস্কৃতি একসময় আমাদের সামাজিক বিবেককেও হত্যা করবে। বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন, পিপিএম জানিয়েছেন, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর