বরগুনার তালতলীতে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ভাসমান অবস্থায় একটি বিশাল সামুদ্রিক কোরাল মাছ জেলের জালে ধরা পড়েছে। মাছটির ওজন ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম। পরে তালতলী মাছ বাজারে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে এটি ১৯ হাজার ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়।
শনিবার সকালে স্থানীয় জেলে মান্নান খান ইলিশ ধরতে সাগরে গেলে ফকিরহাট সংলগ্ন মোহনায় মাছটিকে ভাসতে দেখেন। তিনি জাল ফেলে মাছটি তুলে নেন। তবে মাছটি তখন মৃত ছিল বলে জানান জেলেরা। পরে মাছটি তালতলী মাছ বাজারে নিয়ে আসা হলে তা দেখতে ভিড় জমে যায়।
তালুকদার মৎস্য আড়তে শহিদুল হক তালুকদারের গদিতে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকা দরে মাছটির দাম হাঁকানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বশির মৃধা মাছটি কিনে নেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাছটির রং কিছুটা সাদাটে হয়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায়নি। মাছটি আরও সতেজ থাকলে এর দাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারত।
জেলে মান্নান খান বলেন, "এত বড় মাছ জীবনে খুব কমই পেয়েছি। সাগরে ভাসতে দেখে জাল ফেলি। তখন মাছটি জীবিত ছিল না। তবে প্রায় ১৯ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরে অনেক খুশি। মাছ কম পেলেও এই একটি মাছ আমাদের বড় সহায়তা করেছে।"
মাছের ক্রেতা মো. বশির মৃধা বলেন, "সচরাচর এত বড় কোরাল পাওয়া যায় না। মাছটি কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে।"
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা এর তালতলী সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান বলেন, "এটি শুধু একটি বাজারের ঘটনা নয়, বরং সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এত বড় মাছ হঠাৎ মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠা স্বাভাবিক নয়। দূষণ, অবৈধ জাল, ট্রলারের আঘাত বা সমুদ্রে বর্জ্য নিঃসরণের মতো কারণ থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।"
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, "বড় আকারের কোরাল বঙ্গোপসাগরে পাওয়া যায়। তবে মৃত অবস্থায় ভেসে উঠলে তার কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। প্রাকৃতিক কারণ, রোগ বা আঘাত বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং জেলেদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।"
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর