বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলা নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নারীসহ একই পরিবারের অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২০ মে সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকালে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের বাবু হোসেন (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং মোছা. আসমা খাতুন (২৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে বাদী আব্দুস সালামের ভাতিজা সোহান (১০)-এর সাথে বিবাদীদের ছেলেদের ফুটবল খেলা নিয়ে মারামারি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস করার চেষ্টা করা হলেও বিবাদীরা তা মানেননি। এর জেরে গত ২০ মে সকালে বিবাদীরা লাঠিসোঁটা, রামদা, হাসুয়া ও বঁটিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর ভাই মো. নাসির উদ্দিনের (৬০) বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় বিবাদী বাবু হোসেনের হাসুয়ার কোপে নাসির উদ্দিনের মাথায় গুরুতর জখম হয়।
এছাড়া রফিকুল ইসলামের রামদার আঘাতে বাদীর ভাতিজা লিটন হোসেন (৩৫) এবং অপর বিবাদীর চাকুর আঘাতে ভাতিজা মাহমুদুল হাসান (৪৫) রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় হামলাকারীর লাঠির আঘাতে লাইলী খাতুন এবং রাজিয়া খাতুন গুরুতর আহত হন।
বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, হামলার সময় বিবাদীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া ঘরের স্টিলের বাক্সে রাখা নগদ ৪ লাখ টাকা এবং ভাতিজার স্ত্রীর গলা ও কান থেকে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহিম আলী বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর