বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক স্লুইজ থেকে নিশানবাড়িয়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের পরে দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো শেষ হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে সড়কে বাশের বেড়া দিয়ে প্রায় ৩ঘন্টা ব্যাপী সড়ক অবোরধ করে যান চলাচল বন্ধ করে রাখে স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) মো. সাইফুল ইসলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপর চরাও হয় বিক্ষুব্ধ জনগন। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে দ্রুত কাজ শেষ করার শর্তে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
জানাগেছে, বরগুনা শহরের সঙ্গে একটি উপজেলা ও চারটি ইউনিয়নের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী বরগুনা- নিশানবাড়ীয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে খোয়া ফেলা হলেও তা সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত। এতে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চলতি শুকনো মৌসুমে সড়কে বিছানো ইটের খোয়ার ধুলোয় অতিষ্ঠ সকলে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সড়ক প্রকল্পের জন্য ৩২ কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই, যা এলজিইডির তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি তারা।
এলাকাবাসীর দাবি শুধু আশ্বাস নয়, তারা দ্রুত কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। চড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাসিন্দা মো. হাফিজ বলেন, বরগুনা- নিশানবাড়ীয়া সড়ক দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। দ্বির্ঘদিন ধরে এই রাস্তার কাজ চলমান। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের অবহেলার কারনে সড়কটির এই দুরাবস্থা। নিম্মমানের খোয়া ব্যবহার করার সড়ক জুড়ে ধুলাবালি। ফলে এখানে চলাচলকারী মানুষজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছে। পরীর খাল এলাকার অটোরিকশা চালক জসীমউদ্দীন বলেন, আমি এই রাস্তায় অটো চালাই, একদিন এক গর্ভবতী অসুস্থ যাত্রী নিয়ে বরগুনা হাসপাতালে যাওয়ার পথে আমার গাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন। রাস্তা খারাপ থাকায় আমি দ্রুত তাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি নাই।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করার পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কেটে দেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরগুনা সদর উপজেলার প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করা হবে। যেহেতু ৪টি প্যাকেজের কাজ একই ঠিকাদার করেছেন, দুটো কাজ তারা শেষ করেছেন। বর্ষার আগেই এই সড়কের কাজ শেষ করা হবে এমন আশ্বাস দেন তিনি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর