ময়মনসিংহের ভালুকায় অযত্ন আর অবহেলা সত্ত্বেও রক্তিম পলাশের রঙে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক অন্যরকম দৃশ্য মন হরণ করে নেয় খুব সহজেই। ঋতুরাজ বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ণ ফুলের ছড়িয়ে পড়া রূপ প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়েছে। মহাসড়কে আগুনরাঙা লাল পলাশ ফুলের ছোঁয়ায় নান্দনিক সৌন্দর্যে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হচ্ছেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার এলাকার সড়কের বিভাজকে আগুনরাঙা পলাশ ফুটেছে। মহাসড়কে গাড়িতে চলতে চলতে ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন যাত্রীরা। অপার এই সুন্দর থেকে বঞ্চিত হন না পথচারীরাও। সড়ক ও জনপথ (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন হওয়ার পর সড়ক বিভাজকে নানা প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়। সৌন্দর্যবর্ধন ও বিভাজকের মাটি আটকে রাখার জন্য ওই গাছ লাগানো হয়। এর মধ্যে পলাশও আছে। ঋতুরাজ বসন্তে পলাশ ফোটে। এ ছাড়া ঋতুভেদে এখানে সোনালী, কৃষ্ণচূড়া, শিমুলসহ নানা ধরনের ফুল ফোটে। তিনি আরও বলেন, যে সমস্ত জায়গায় গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে সেখানে নতুন করে আবার চারা রোপণের ব্যবস্থা করা হবে।
মহাসড়কের ভালুকা অংশের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি, সিডস্টোর, ভালুকা, ভরাডোবাসহ পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলায় পলাশ ফুল চোখে পড়ে। যত দূর চোখ যায়, শুধু রঙিন পলাশ আর পলাশ। ময়মনসিংহ পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থী ভালুকার বৃষ্টি বলেন, ভালুকা থেকে ময়মনসিংহে কলেজে যাই। গাড়ি থেকে রাস্তার ডিভাইডারে পলাশ ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর লাগে, মন খারাপ থাকলেও মন ভালো হয়ে যায়। ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাইন উদ্দিন জানান, সবাই ফুলকে ভালোবাসে। গন্তব্যে কিংবা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে যদি নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়ে তখন মনটা এমনিতেই সতেজ হয়ে ওঠে আর এমন সুখানুভূতির পরশ পাওয়া যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকে ফুটে থাকা রক্ত রাঙা পলাশ ফুলের সমারোহে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল জানান, মহাসড়কের বিভাজকে যে পলাশ ও অন্যান্য ফুল গাছগুলো আছে তার সঠিক পরিচর্যা করলে আরও বেশি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ আরও যত্নশীল হবে।
পলাশ ভারতীয় উপমহাদেশের ফুল। বাংলাদেশে এই ফুল বেশি ফোটে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, পুরুলিয়া এলাকায় এই ফুলের দেখা মেলে। বেঙ্গালুরুতেও পলাশ আছে। পলাশ ফুল লাল, লালচে কমলা, হলুদ ও সাদা রঙের হয়ে থাকে। এই গাছের নানা ঔষধি গুণও আছে। বসন্তে গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে এই ফুল ব্যবহার করেন। পলাশ গাছের ছাল, পাতা ও বীজ নানা রোগ সারাতে কাজে লাগে। চর্মরোগ, জ্বর, ডায়রিয়া, ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় এর ব্যবহার আছে। যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিক আর শিল্পীদের কথা-গানে-ছবিতে পলাশ ফুল এসেছে বারবার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় পলাশ এসেছে এভাবে ‘হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল/এনে দে এনে দে নইলে/বাঁধব না, বাঁধব না চুল...।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে-কবিতায় অসংখ্যবার এসেছে পলাশের কথা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর