দেশের কৃষি ও কৃষকের টেকসই উন্নয়ন এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নতুন করে গঠিত সংগঠন 'বাংলাদেশ কৃষক ঐক্যজোট (BAKEJO)'।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সংগঠনের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি (সংশোধিত) ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কামরুল হাসান এবং মহাসচিব ডাঃ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য জোট (বাকেজো) অরাজনৈতিক, আলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।কৃষকের ঘামে জন্য হয় দেশের আশা, সে দেশের প্রাণের ভোমরায় শস্যের শিকড় গাড়ে। সে প্রতিদিন ক্ষুধা, অনিশ্চয়তা ও দারিদ্রতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য জীবন বাঁচায়। কৃষকের হাত ধরেই লেখা হয় স্বাধীনতার গল্প, এবং তার দৃঢ় সংকল্পই রক্ষা করে আমাদের ভবিষ্যৎ। দেশের প্রতিটি জমিতে কৃষকের স্বপ্ন জেগে আছে। সেই স্বপ্নকে বাঁচাতে, দেশের মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্রতার আঁচ থেকে রক্ষা করতে আমাদের সকলকে একজোট হতে হবে। বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য জোট এর পক্ষ থেকে আমরা রচনা করেছি দেশের কৃষকের অধিকার ও ন্যায্য দাবির শক্তিশালী ১৩ দফা প্রস্তাবনা ।
এই দাবিগুলো শুধু কৃষকের জন্য নয়, সমগ্র জাতির মর্যাদা ও ভবিষ্যতের জন্য অটল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৩ দফা দাবিগুলো হল-
১। ধান গম ভুট্টা সবজি মাছ মুরগি ডিম দুধের ন্যূনতম সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি কৃষক ও খামারিরকাছ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্রয় চালু করতে হবে।
২। সার বীজ কীটনাশক ফিড বাচ্চা ভ্যাকসিন ডিজেল ও বিদ্যুৎ কৃষিতে আজীবন ভর্তুকি দিতে হবে।
৩। মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভেঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক ও খামারি বিক্রয় কেন্দ্র চালু করতে হবে।
৪। প্রতিটি কৃষক ও খামারি পরিবারকে কৃষক কার্ড ও কৃষক হেলথ কার্ড দিতে হবে, চিকিৎসা হবে সম্পূর্ণ ফ্রি।
৫। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ মহামারী বা বাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের সব ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ করতে হবে।
৬। সুদমুক্ত কৃষি ও খামার ঋণ চালু করে প্রকৃত কৃষক ও খামারির হাতে অর্থ সরাসরি পৌঁছাতে হবে।
৭। ভেজাল সার, বীজ, কীটনাশক, ফিড ও ওষুধ বিক্রেতাদের আজীবন লাইসেন্স বাতিল ও জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে।
৮। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র রাষ্ট্রকে নির্মাণ করতে হবে।
৯। কৃষি জমি দখল ও শিল্পে রূপান্তর বন্ধ করতে হবে, ভূমিহীন কৃষককে খাস জমি দিতে হবে।
১০। কৃষক ও খামারি পরিবারকে মাসিক ন্যূনতম ভাতা চালু করতে হবে।
১১। উপজেলা জেলা ও জাতীয় কৃষি সভায় বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাচিত কৃষক প্রতিনিধি রাখতে হবে এবং সংসদে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
১২। কৃষিকে রাষ্ট্রের প্রধান শিল্প ঘোষণা করে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিতে হবে।
১৩। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি জমিতে একটি করে কৃষি বাজার সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে কৃষক বিনা শুষ্কে সরাসরি তার পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্যজোট-এর ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী নবগঠিত কমিটির নীতি নির্ধারণে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব:। অহিদুল আলম, মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান, মো. নুরুল্লাহ আল আমিন, মাকসুদ খান, তাইজু উদ্দিন, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, আবু আইয়ুব, মো. নাহিদুল হাসান নয়ন এবং সোহেল।নির্বাহী কমিটিতে মো. মাকসুদ আলম মাসুম সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, নূরে আলম ও সাদ ইবনে হোসাইন কো-চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মো. জহির উদ্দীন মৰু সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউল্লাহ ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক মুশফিকুর রহিম রনি এবং কৃষক অধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা দায়িত্ব লাভ করেছেন। কমিটি ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, "কৃষকের অধিকার রক্ষা এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নে এই কমিটি মাঠ পর্যায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
"উল্লেখ্য যে, এই কমিটি ঘোষণার তারিখ (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর