ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন সবার নজর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের দিকে। আনুপাতিক ব্যবস্থায় বিএনপি এককভাবে ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই আসনগুলিতে কারা সংসদ সদস্য হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার প্রার্থী নির্বাচন করার সময় বিএনপি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে গত ১৫ বছরে রাজপথে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেত্রী, সাবেক ছাত্রনেত্রী এবং গত নির্বাচনে কম ব্যবধানে পরাজিত জনপ্রিয় প্রার্থীদের। এছাড়া বিতর্কিত ইমেজ এড়িয়ে পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিএনপি বরাবরের মতো বলছে, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে। নারী নেতৃত্বের বক্তব্য, দুঃসময়ের কর্মীদেরই সম্মান দেওয়া উচিত।
নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর আগামী ১২ মার্চ বসবে প্রথম অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যেই অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন সংসদে একাধিক জরুরি পদক্ষেপের মধ্যে সংরক্ষিত ৫০টি আসনে নারী সদস্য মনোনয়ন অন্যতম। বিএনপি জানিয়েছে, অধিবেশন শুরু হলে এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নারী নেত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের প্রত্যাশা বেশি থাকা স্বাভাবিক।
বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, “আমরা যারা ৪২–৪৩ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছি, আমাদের অবদান অনেক। পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মও মাঠে ছিল এবং দলের জন্য লড়াই করেছে। কেবিনেট গঠন এবং ৩০০ আসনের মনোনয়ন যেভাবে দেওয়া হয়েছে, তেমনিভাবে সংরক্ষিত আসনেও নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় করে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।”
নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, “দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা মানুষগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অতীতে যারা দলের পাশে ছিল, তারা কখনও সহজে পাওয়া যায়নি। আমরা বিশ্বাস করি দল সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”
প্রায় চার দশক জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে যুক্ত এই নেত্রী মনে করেন, দেশের নারী ক্ষমতায়নে সংসদের সংরক্ষিত আসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিষ্টাচার বজায় রেখে নীতি নির্ধারণে মেধাসম্পন্ন নারীদের প্রয়োজন।
বিএনপি নেত্রী হেলেন জেরিন খান বলেন, পার্লামেন্ট একটি ডিবেটের জায়গা, ল মেকারের জায়গা। এখানে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে হবে। এখানে ডিবেট হবে, বিরোধী দল থাকবে, তাদের কথার রেসপন্স করতে হবে। এখানে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সুশিক্ষিত লোক হলে ভালো হয়। এ ধরনের পরীক্ষিত নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে আশা করি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসন বিবেচনায় শুধু বিএনপির ভাগে যাবে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং এনসিপি পাবে ১টি আসন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী ফলাফল সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর