আদালতে মামলা থাকায় গত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারিভাবে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে। তবে অনিবন্ধিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি স্কুল বোর্ডের সহ-শিক্ষা সচিব রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।
২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) গাইবান্ধার বেশকিছু বেসরকারি স্কুল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সরকার যে নিবন্ধন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, তা শিক্ষার মান ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। যারা এখনো নিবন্ধনের আওতায় আসেনি, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে আবেদন করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা, এমনকি এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা চাই সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বৈধ কাঠামোর মধ্যে আসুক।"
জানা গেছে, দেশে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজধানীসহ সারা দেশে পাড়া-মহল্লার অলিগলি, ফ্ল্যাট বাড়ি বা ছাদে অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন স্কুল গড়ে উঠেছে। তবে সরকার ঘোষিত বাধ্যতামূলক নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এখনও অনীহা রয়েছে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
সরকার ২০২৩ সালে মানোন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিবন্ধন নীতিমালা জারি করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুযায়ী, দেশে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে নিবন্ধন নিয়েছে মাত্র ১০–১২ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ এখনও নিবন্ধনের বাইরে।
নিবন্ধন না নেওয়ার কারণ হিসেবে উদ্যোক্তারা উল্লেখ করছেন—নির্ধারিত জমি, খেলার মাঠ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাসহ শর্ত পূরণ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কঠিন। বহু স্কুল এখনও ভাড়া করা বাড়ি বা টিনশেডে পরিচালিত হচ্ছে।
সহ-শিক্ষা সচিব রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, "নীতিমালার ভিত্তিতে সব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় এনে শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা নয়, বরং মানসম্মত কাঠামোয় নিয়ে আসাই লক্ষ্য।"
নীতিমালার মূল শর্ত অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি ধারাবাহিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ‘সংরক্ষণ তহবিল’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুলের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ৩০:১ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সাত সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকতে হবে। পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নির্ধারিত বই অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর