নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ব্যবহারিক সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী যখন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না, ঠিক তখনই ইউএনও তার জন্য সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহার করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ উঠেছে, গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া তার সরকারি লাল গাড়ি নিয়ে নীলফামারীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় যান। একই দিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সরকারি গাড়ি নিয়ে ইউএনও’র স্বামী পেট্রোল পাম্প হয়ে সৈয়দপুরের দিকে যান। প্রায় ৩০ মিনিট পরে গাড়িটি আবার কিশোরগঞ্জের দিকে ফিরে আসে। একই দিন বিকেলে ওই গাড়িতে চেপে ইউএনও’র স্বামী আবারও সৈয়দপুর বিমানবন্দর যান। এছাড়া একই দিনে উপজেলা পরিষদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়িটিও বিভিন্ন দিকে চলাচল করতে দেখা গেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হওয়ায় সে গাড়িটিও এখন ইউএনও ব্যবহার করছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় সেই দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও সোহানিয়া। ফলে তার ব্যবহারের জন্য সরকারি গাড়ি, উপজেলা পরিষদের গাড়ি ও এসিল্যান্ডের গাড়িসহ মোট ৩টি সরকারি গাড়ি ও ওই গাড়ির জ্বালানি তেল পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি ইউএনও সোহানিয়ার স্বামী ছুটিতে কিশোরগঞ্জে আসেন। ছুটি শেষে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এসিল্যান্ডের ব্যবহারের জন্য সরকারি গাড়িটি নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের দিকে যান। তবে কোনো কারণে তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার এলাকা থেকে ফেরত আসেন। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে এসিল্যান্ডের গাড়িটি নিয়ে আবারও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে ঢাকা যান ও পরে এসিল্যান্ডের গাড়িটি কিশোরগঞ্জে ফেরত আসে।
সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা মূলত প্রশাসনিক গতিশীলতা রক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। এর বাইরে পারিবারিক কাজে, পরিবারের সদস্য ও অন্য কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন না।
এদিকে, নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা দেশের ব্যয় কমাতে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না, নিচ্ছেন না সরকারিভাবে জ্বালানি। সেখানে ইউএনও সোহানিয়া তার ব্যবহারের গাড়িটি ব্যবহারের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা পরিষদের গাড়ি ২টি পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অপচয় করায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে বলেন, তিনি লাক্স সুন্দরী তো। অনেক বড় বড় আমলার সাথে পরিচয় আছে, তাই তিনি সরকারি গাড়ি নিজের গাড়ির মতোই ব্যবহার করছেন।
এসিল্যান্ডের গাড়িচালক নুর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এসব বিষয় বাদ দেন তো। তবে তিনি গাড়িটি ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, সরকারি গাড়ি কেউ পারিবারিক কাজে ব্যবহার করতে পারে না এবং এসিল্যান্ডের গাড়িটি আমার পারিবারিক কাজে ব্যবহার হয়নি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে গাড়িটি ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, গাড়িটি তো জেলার বাহিরে যায়নি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর