মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি—ইরানের কাছে এমন পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে একাধিক পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। তবে এ দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন এক কূটনীতিক।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত Steve Witkoff বলেন, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধির প্রায় ৪৬০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে। তার দাবি, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে প্রায় ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
উইটকফের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি আলোচকরা প্রথম বৈঠকেই তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই তারা আমাদের জানান যে তাদের নিয়ন্ত্রণে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধির ৪৬০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যেতে পারে।”
তবে এ দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত পারস্য উপসাগরীয় এক কূটনীতিক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, উইটকফ যে কথোপকথনের বর্ণনা দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, ইরানি কর্মকর্তারা বরং জানিয়েছিলেন—নতুন কোনো চুক্তি হলে অথবা ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তারা এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরিত্যাগ করতে প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
সমরাস্ত্র বিশারদদের মতে, ইউরেনিয়াম একবার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হলে তা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়। আর ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামই পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী Muscat-এ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রথম দফা বৈঠকে বসে ওয়াশিংটন ও তেহরান। ওই বৈঠকে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi, মার্কিন বিশেষ দূত উইটকফ এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে আলোচনা করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি সাক্ষাৎ করেন।
পরবর্তী সময়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের Geneva-এ দ্বিতীয় দফা আলোচনা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর দুই দিন আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি একই শহরে শেষ দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে দেশটিতে সামরিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিস্তার রোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ালে তা উল্টো দেশটিকে গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর