সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, সমঝোতা বা মানিয়ে চলতে না পারা নিজের ও আশপাশের সকলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, “আমার মানিয়ে বা সমঝোতা করতে না পারার চরিত্রটাই নিজের এবং আশপাশের সকলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আজ ১১ মাসের অনুসন্ধানের পর কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় দুদক মোয়াজ্জেমকে নিষ্পত্তি দিয়েছে। অথচ এই ১১ মাসে কয়েক হাজার নিউজ ও ন্যারেটিভ ছড়িয়ে তার এবং তার পরিবারের জীবন দুঃসহ করে তোলা হয়েছিল।”
তিনি জানান, উপদেষ্টা থাকার সময় তার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে পারেননি মোয়াজ্জেম। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের হ্যারাসমেন্টের কারণে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার তথ্যও তিনি পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, “সত্য আজ হোক বা আগামীকাল, একদিন তা সামনে আসবেই। কিন্তু মিডিয়ায় এটি মিথ্যা প্রমাণের মতো প্রচার করা হয় না।”
তিনি আরও লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে মিডিয়ার ন্যারেটিভ ব্যবহার করে জেল বন্দি রাখা হয়েছিল। এ ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করে, কোনোরকম প্রমাণ ছাড়া, দেশের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বলেন, “যে দেশে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে এমন আচরণ করা সম্ভব, সেখানে আমরা কী অবস্থা?”
আসিফ মাহমুদ মন্তব্য করেন, যখন বৈধ উপায়ে কাউকে দমন করা সম্ভব নয় এবং কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ হাতে থাকে না, তখন মিডিয়া ট্রায়াল ও ন্যারেটিভ নির্মাণের পথ বেছে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “গোয়েবলসের সূত্রের মতো মিথ্যা বারবার দেখানো ও শোনানো হবে, যাতে আপনি তা বিশ্বাস করতে বা সন্দেহে পড়ে যেতে পারেন। এরপর সেই মিথ্যার ভিত্তিতে কাউকে নিপীড়ন করা যেন বৈধতা পায়।”
সমঝোতা করে চললে এর কিছুই ঘটত না বলে দাবি করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি লেখেন, যদি আমি সরকারের সিদ্ধান্ত ও আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে সমঝোতা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শপথ পড়াতাম। যদি খুনি, ফাঁসির আসামি শেখ হাসিনাকে সেলিব্রেট করা ফ্যাসিস্ট এমপি সাকিব আল হাসানকে সাদরে দেশে নিয়ে আসতাম। যদি তাদের কথামতো শাপলা চত্বর আর মোদিবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি না দিতাম। যদি বিসিবিতে অবৈধভাবে সিন্ডিকেটের (বিশাল ৭ নেতার ৭ ছেলেসহ) কমিটিকে বসাতাম। যদি আওয়ামী লীগের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়াতাম। যদি স্টাবিলিশমেন্টের ক্ষমতার লোভকে সায় দিয়ে গণতন্ত্র ধূলিস্যাৎ হতে দিতাম। যদি তাদের বাধা স্বত্বেও ফেলানী সড়কের নামকরণ না করতাম। যদি কুমিল্লার মুরাদনগরে আমার জন্ম না হতো।
নীতির ওপর অটল থেকেছেন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এমন আরও কয়েক শ’ কারণ দেওয়া যাবে, যেখানে সমঝোতা করিনি। নীতির ওপর অটল থেকেছি। শক্তিশালী প্লেয়ারদের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেললেই খুব আরামে থাকা যেত। কেউ জ্বালাতন করত না, বরং তারাই দায়িত্ব নিয়ে আমি কোনো অপকর্ম করলেও তা ধামাচাপ দিত। নিত্যদিন চোথা পাঠিয়ে নিউজ করে চরিত্রহনন করত না।
পোস্টের শেষে আসিফ মাহমুদ লেখেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষ এসেও খারাপ হয়ে যায় ঠিক এই কারণেই। শক্তিধরদের সঙ্গে সমঝোতা না করে, তাদের এজেন্ডায় পরিচালিত না হয়ে এখানে বেঁচে থাকাও কঠিন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর