ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করেন।
অন্য দুই আসামি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
শুনানিতে ইমির পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, সৈকতের পক্ষে তরিকুল ইসলাম এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে গোলাম রাব্বানী জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুনের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।
এর আগে শনিবার বিকালে চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুজন আটক হন। তাদের মধ্যে আসিফ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যজন মাইক অপারেটর।
শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন রিকশা নিয়ে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি পরিচালনা করেছিলেন, যা তারা দুজনের আটককে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আয়োজন করেন। ইমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থী সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় কর্মসূচি শুরু হয়। রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেললে আয়োজকরা বাধা দিলে হাতাহাতি ঘটে।
হাতাহাতির পর ইমিসহ অন্যরা জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভিতরে নিয়ে যান।
এসময় ইমিসহ সঙ্গে থাকা মামুনকে ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে থানার ফটকে টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হয়। পরে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ইমি ও মামুনকে থানার ভিতরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
রবিবার শাহবাগ থানা পুলিশ ইমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, আসামিরা ‘মসজিদের দিকে মুখ করে লাউডস্পিকারে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন’ এবং ‘সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা করেছেন’। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ডাকসু প্রতিনিধি এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক মোহাম্মদ নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী আব্দুল আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
আইন ও আদালত এর সর্বশেষ খবর