• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫ সেকেন্ড পূর্বে
মো: সাইফুল আলম সরকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ০৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৯ রাত

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথিত পাহাড়িদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে পিসিএনপির সংবাদ সম্মেলন

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে নিয়ে তথাকথিত ৩৫ জন পাহাড়ি বিশিষ্টজনের বিবৃতিসহ ঊষাতন তালুকদারদের দেওয়া স্মারকলিপির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি'র কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, মীর হেলালকে নিয়ে চলতি মাসের তিন তারিখে ভূঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে একটি মহল বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা শান্তিচুক্তি ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাকে বাদ দেওয়ার জন্য পায়তারা করছে। তারা এই মিশন বাস্তবায়নে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

কাজী মজিবর রহমান বলেন, মীর হেলাল একজন যোগ্য ব্যক্তি হয়েও তাদের ষড়যন্ত্রের বাইরে নেই। আসলে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরাই ভূমিপুত্র। আর পাহাড়িরা হলেন সেটেলার। তাদের আভিজাত্য ধরে রাখতেই মন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, মীর হেলালের নিয়োগ নিয়ে যারা 'অ-পাহাড়ী' তকমা দিচ্ছেন, তারা সম্ভবত পাহাড়ের বর্তমান জনতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এড়িয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ে বসবাসরত প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা আজ বাঙালি। তারা এই মাটিরই সন্তান, দেশের মূল স্রোতধারার নাগরিক। রেইনবো নেশন দর্শনের আলোকে তারেক রহমান এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে রাষ্ট্র কাউকে 'সংখ্যালঘু' বা 'প্রান্তিক' হিসেবে দেখবে না। যদি একটি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তর কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকে, তবে তা অন্য বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বঞ্চনার সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। দীপেন দেওয়ান ও মীর হেলালের এই সমন্বয় আসলে 'চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স' বা ক্ষমতার ভারসাম্য। একজন পাহাড়ের আবেগ ও ঐতিহ্য রক্ষা করবেন, অন্যজন পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়ন ও আইনি ভিত্তি প্রদান করবেন। এটি একটি টিম-ওয়ার্ক, যা পাহাড়ের মানুষকে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেবে।

তিনি আরও বলেন, সিএইচটিতে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার বাঙালিরা। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত আমরা। এসব বিষয়ে কথা বললেই আমাদের সেটেলার বলা হয়। তারা দিনের পর দিন নীরব চাঁদাবাজি, খুন, গুম ও অপহরণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা করে যাচ্ছে। তাদের এই কর্মকাণ্ড সামাল দিতে এসে প্রতিনিয়ত খুনের শিকার ও গুলিবিদ্ধ হচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও সাধারণ মানুষ। ফলে ভূমিপুত্র হয়েও পাহাড়ে বাঙালিরা আজ অবধি অনিরাপদ।

পিসিএনপি'র চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়ে তাদের একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এরমধ্যে জেএসএস (মূল), জেএসএস (এমএন লারমা), ইউপিডিএফ (মূল), ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক), ইউপিডিএফ (সংস্কার), এমএলপি (মগ লিবারেশন পার্টি), কুকি-চিন বা কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) উল্লেখযোগ্য। এদের কারণে পাহাড়ে বারবার রক্তাক্ত হচ্ছে পাহাড়ি বিভিন্ন জনপদ। একইসঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সম্প্রীতি। সর্বোপরি দেশরক্ষা বাহিনী পার্বত্য এলাকায় সেবা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এই পর্যন্ত কম-বেশি এক হাজারের অধিক সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য শহীদ হয়েছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য এলাকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪১ এই অনুচ্ছেদগুলো তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন। যার দরুন আজ ৫৪ শতাংশ বাঙালি স্থায়ীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করছে। তাই বাংলাদেশের এক দশমাংশ জায়গাজুড়ে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে আপনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

শান্তিচুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সবখানে পরিবর্তন এসেছে। শেখ হাসিনার করে যাওয়া অনেক আইন-কানুনও বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু পার্বত্য চুক্তিটি শেখ হাসিনার করা; এটি কেন কালো আইন হিসেবে বাতিল হবে না? অনতিবিলম্বে এই কালো চুক্তি আমরা বাতিল চাই।

এসময় সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবু তাহের, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মো. মোস্তফা আল ইহযাজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ, ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগরের সভাপতি মো. রাসেল মাহমুদসহ আরও অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com