যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য বা শেষ লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় ওয়াশিংটনের প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন অবকাঠামো। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ১,২০০ জনের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে।
সরকার পতনের লক্ষ্য?
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে “রেজিম চেঞ্জ” বা সরকার পরিবর্তনের কথা না বললেও তাদের সামরিক পদক্ষেপে সেই লক্ষ্যই ইঙ্গিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে দুর্বল করে দিলে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে—এমন ধারণা থেকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং ইরান দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে Mojtaba Khamenei-কে ঘোষণা করেছে। এতে দেশটির ক্ষমতার কাঠামো আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামরিক শক্তি ধ্বংসের পরিকল্পনা
ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সামরিক অবকাঠামো ও নৌবাহিনী ধ্বংস করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নৌঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক শক্তি ধ্বংস করলেও তা রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে পারে না।
আত্মসমর্পণের দাবি
যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বানও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শেষে ইরানের জনগণ নিজেদের সরকার গঠন করতে পারে।
তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হামলা চলাকালীন কোনো আলোচনায় বসবে না এবং বিদেশি চাপের মুখে আত্মসমর্পণও করবে না।
স্থল অভিযান কি সম্ভব?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালালে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। যদিও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে।
সম্ভাব্য শেষ পরিণতি
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সামরিক নয় বরং রাজনৈতিক সমঝোতার পথেই যেতে পারে।
তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। এতে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের দাবি জানিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর