মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফের চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু (৬০), রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০), বিএনপি কর্মী খাইরুল ইসলাম (৪৪) ও রাসেল হোসেন (৪২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন কালু ও খাইরুল ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, সকাল ১০টা থেকেই উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর লোকজন লাঠি নিয়ে কড়ইগাছি মোড়ে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের লোকজন রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে লাঠি নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
উত্তেজনা নিরসনে বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকার পরিবর্তনের পরপরই রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে সরিয়ে দিয়ে ওয়ার্ড সদস্য সারগিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।কিন্তু বিএনপির গাংনী উপজেলা সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু ও তাঁর লোকজন দাবি করেছেন, সারগিদুল ইসলাম অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া গরিবদের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তিনি নিজের লোকজনের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করছেন। এর প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাশ বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর