শীতকালীন সবজির মধ্যে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি হিসেবে ফুলকপির চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সম্প্রতি এ সবজির নতুন আকর্ষণ হিসেবে বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রঙিন বা ‘রঙ্গিলা’ ফুলকপি। ভিন্ন রঙ, পুষ্টিগুণ ও বাজারে ভালো দামের কারণে অনেক কৃষকই এখন রঙ্গিলা ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চর পুম্বাইল গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুস সালাম রঙ্গিলা ফুলকপি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
তিনি ২০২৫ সালে প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেন। প্রথম বছরেই ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায় এবার আরও উৎসাহিত হয়ে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ শতক জমিতে রঙ্গিলা ফুলকপির আবাদ করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজানো গাঢ় সবুজ গাছের মাঝে ফুটে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন রঙিন ফুলকপি, যা সহজেই যে কারও নজর কাড়ে। এবারে তিনি ২৫ শতক জমিতে প্রায় দুই হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় অনেক কৃষকই এই রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
কৃষক আব্দুস সালাম জানান, তার আগ্রহ দেখে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প’ এর আওতায় তাকে দুই হাজার ফুলকপির চারা সরবরাহ করে। পরে বড়হিত ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আকছার খানের পরামর্শে তিনি ২৫ শতক জমিতে রঙ্গিলা ফুলকপি চাষ করেন। তিনি আরও জানান, এ জমিতে ফুলকপি চাষে তার মোট উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সঠিক নিয়মে পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে তিনি জমিতে সে ক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার করেছেন, ফলে কোনো ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। এতে উৎপাদিত ফুলকপি হয়েছে নিরাপদ ও বিষমুক্ত। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকেই এই রঙিন ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে ভালো দাম থাকায় প্রতিটি ফুলকপি আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এবছর প্রায় ৯০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন কৃষক আব্দুস সালাম।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, রঙিন ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে ও ভিটামিন বি-৬সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কৃষক আব্দুস সালামের সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও রঙ্গিলা ফুলকপি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষকদের এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগ সবসময় প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। তিনি আরও বলেন, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ধরনের সবজি চাষ একদিকে যেমন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক, তেমনি কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর