প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের দুঃখ বোঝেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি আরও বলেন, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যা অচিরেই একনেকে তোলা হবে।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় নদীভাঙা মানুষের দুঃখ বুঝে ২৩ ভেন্টের এ রেগুলেটর নির্মাণ করেন। কিন্তু ভারতের উজানের ঢল ও ভয়াবহ বন্যায় গত ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ প্রকল্প নিয়ে আন্তরিক।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় এখন নদী ভাঙন রোধ করা যাচ্ছেনা। নদীর দুই দিকেই ভাঙছে।ভবিষ্যতে একনেক কমিটিতে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প পাস হবে।এরপর মুছাপুর রেগুলেটর ও মুছাপুর ক্লোজারের কাজ শুরু হবে।তিনি আরও বলেন,পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে আমি স্থানীয় এমপিসহ কথা বলেছি। আমরা তাকে আমাদের সমস্যার কথা অবহিত করি। তিনি বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে তিনি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। আপনারা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের আমন্ত্রণে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিস্কাশন ব্যবস্থানর উন্নয়ন (অংশ-১) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন কর্মসূচিতে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রীরা এসব কথা বলেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো.এনায়েত উল্যাহ, ঢাকা বাপাউবো (পূর্ব রিজিয়ন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো.মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো.আবু বক্কর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, নোয়াখালী পুলিশ পুলিশ সুপার টি, এম মোশারেফ হোসেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল প্রমূখ। এতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম সিকদার।
উল্লেখ্য,২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।ভাঙন প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ওই স্থানে নতুন একটি আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলেই দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রাক্কলিত ব্যয়ে চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে নদীভাঙন ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩ ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রেগুলেটরটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ৭৫৬.১৫ ঘনমিটার। স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন রেগুলেটর নির্মাণ হলে কোম্পানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর