জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ক্যাম্পাসের বটতলা থেকে জুলাই আন্দোলনের অংশীজনদের নিয়ে এ মিছিল হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইনসহ ছয় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ থেকে আসা বেশকিছু স্থানীয় বহিরাগতদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন বহিরাগত জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তারা কুষ্টিয়ার পোড়াদহ, ভাদালিয়া, শেখপাড়া এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন। জুলাই আন্দোলনে তারা অংশ নিয়েছিলেন। স্থানীয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আহ্বানে তারা এ মিছিলে এসেছেন।
বিষয়টির সমালোচনা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধের কথা বলে আসছে। অথচ ছাত্র সংগঠনগুলো অহরহ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ঢুকাচ্ছে। যা প্রশাসনের সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ছাত্র সংগঠনগুলো যদি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে এভাবে মিছিল-মিটিং করতে থাকেন, তাহলে তা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। এভাবে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের কারণে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।"
বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, "জুলাই আন্দোলনের অংশীজনদের নিয়ে আমাদের আজকের মিছিল ছিল। অনলাইনে কর্মসূচির প্রচারণা দেখে বাইরে থেকে কিছু নেতাকর্মী এসেছেন। তাদের সংখ্যা বেশি নয়। তবে আমরা কাউকে আসার জন্য আহ্বান করিনি।"
এরআগে গণমিছিল চলাকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের “জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবার”, “শিক্ষা আর সন্ত্রাস, একসাথে চলে না”, “জুলাই নিয়ে টালবাহানা, চলবে না, চলবে না”, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, করতে হবে, করতে হবে”, “সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার” এবং *“গুপ্ত বলিস কাদেরকে, তোরা ছিলি লন্ডনেসহ" বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করার জন্যই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখছি, আগের সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি, শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে। খুনি হাসিনা সরকার যেভাবে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করেছে, বর্তমান সরকারও একইভাবে দেশ পরিচালনা করছে। গত নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশের জনগণ কোনো মুচলেকাভিত্তিক সরকার বা কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। সরকার সতর্ক না হলে জনগণই তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে।”
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ইউসুফ আলী বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ একটি প্রকাশ্য গণহত্যাকারী দল, যাকে সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি খুনিদের সঙ্গে কোনো ধরনের আঁতাত করা হয়, তাহলে জনগণ তারও জবাব দেবে।”
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর