ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় এক সময় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম ছিল ফুল চাষ। কিন্তু বর্তমানে ফুলের বাজারে দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ফুল চাষ করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ফুল চাষ করে অনেকেই এক সময় গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন। তবে বর্তমানে ফুলের বাজারে মন্দা থাকায় অনেকেই সুন্দর ফুল ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ খুব কম দামে বিক্রি করছেন। ফুলের দাম কমে যাওয়ায় অনেক চাষি আপাতত ফুল চাষ বন্ধ রাখছেন। আবার কেউ কেউ ভবিষ্যতে দাম বাড়বে এই আশায় গাছের পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বালিয়াডাঙ্গা ফুল বিপণন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং পবিত্র মাহে রমজানের কারণে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, বিয়ে ও সামাজিক আয়োজন কমে গেছে। ফলে ফুলের চাহিদাও কমেছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ফুলের বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। বর্তমানে গাঁদা ফুলের প্রতি ছোপা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকায়, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এর দাম ছিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। রজনীগন্ধা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১ থেকে ৩ টাকায়, যা আগে ছিল ৮ থেকে ১০ টাকা। গোলাপ ফুলের দাম এখন ২ থেকে ৩ টাকা, যেখানে আগে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। এছাড়া জারবেরা ফুলও বর্তমানে ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার স্বাভাবিক মূল্য ছিল ৮ থেকে ১৫ টাকা।
ফুলের বাজারে এই বড় ধরনের মূল্য পতনের কারণে অনেক চাষি দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা যাতে ন্যায্য মূল্য পান এবং ফুল চাষ টিকিয়ে রাখতে পারেন, সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়েছেন ফুল চাষিরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর