বগুড়ায় গণপিটুনি ও ‘মব’ সৃষ্টি করে আটক করার পর পুলিশে সোপর্দ করা আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতেই তিনি ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এ কারাবন্দি অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বগুড়া জেলা কারাগারে এই ঘটনায় জেলা প্রশাসক নুরুল মুবীন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। শাহনূর আলম শান্ত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে একদল যুবক ‘মব’ সৃষ্টি করে শান্তকে আটক ও মারধর করে পুলিশে দেয়। পরে তাকে একটি বিস্ফোরক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৭ জানুয়ারি তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারাগারের ডেপুটি জেলা কর্মকর্তা তায়েবা জানিয়েছেন, অসুস্থ অবস্থায় তাকে কয়েকবার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শাহনূর আলম শান্ত ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাটশেরপুর গ্রামের রজব আলী দাবি করেন, “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করার অপরাধে তাকে ৪ জানুয়ারি ‘মব’ করে আটক করা হয়, পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে না পারায় মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা না থাকলেও সাজানো বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ওপেল এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “একের পর এক কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
উল্লেখ্য, গত দুই মাসে বগুড়া কারাগারে থাকা অবস্থায় গাবতলীর এমদাদুল হক ভুট্টু, আবদুল মতিন মিঠু, জেলা আওয়ামী লীগের শাহাদত আলম ঝুনু, শিবগঞ্জের আবদুল লতিফ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলাম রতন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শাহনূর আলম শান্তকে নিয়ে এই সংখ্যা ছয়জনের হয়ে দাঁড়াল।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর