ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হঠাৎ আঘাত হানা রাতের ঝড়ে অন্তত অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ঈদের ঠিক আগে বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।
মঙ্গলবার গভীর রাত, আনুমানিক ২টার দিকে দক্ষিণ দিক থেকে আসা তীব্র ঝড় উপকূলীয় ১০টি এলাকায় আঘাত হানে। শুরুতে হালকা বাতাস থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টিও। প্রবল বাতাসে টিনের চালা উড়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে পড়ে এবং গাছপালা উপড়ে যায়।
ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ জানান, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সেহরির আগেই ঝড়ে তার ঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ঈদের মাত্র তিন দিন আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তার মতো আরও অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।
ঢালচরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো. গিয়াস উদ্দিনসহ বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় অনেক পরিবার রাতের অন্ধকারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে বাধ্য হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়ন, যেখানে অধিকাংশ মানুষ কাঁচা ঘরে বসবাস করেন। ফলে তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রী ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা ও নজরুল নগরসহ ১০টি এলাকায় অন্তত ৫০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চর মানিকা ইউনিয়নের বাসিন্দা সেলিম জানান, ঝড়ে চর কচ্ছপিয়া বাজারে তার ঘরের চালাও উড়ে গেছে।
ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল বলেন, 'শুধু ঢালচরেই প্রায় ৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর