• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ সেকেন্ড পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৪৮ রাত

ছাদ ঢালাই চলাকালে দুই ঘণ্টা সশস্ত্র তাণ্ডব, লুটে তছনছ নির্মাণস্থল

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া ভূতপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় দিনে দুপুরে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বাড়ির মালিক ইউনুচ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইউনুচ ওই এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চাকমারকুল মৌজার ১৮৩০ ও ৩৮৭০ নম্বর দলিলে তিন গন্ডা জমি ক্রয় করেন ইউনুচ। পরে তার নামে ৪৯৩১ নম্বর সৃজিত খতিয়ান হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখে সম্প্রতি সেখানে ভবন নির্মাণ শুরু করেন তিনি। ইতিমধ্যে পিলারসহ নিচতলার কাজ শেষ হয়। মঙ্গলবার সকালে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় হঠাৎ দেশীয় অস্ত্রসহ অর্ধশতাধিক লোক নির্মাণস্থলে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীদের হাতে রামদা, লোহার রড, কিরিচ ও হাতুড়ি ছিল। তারা নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি ঘরেও এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়। টানা প্রায় দুই ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ইসলাম মাস্টারের ছেলে হাবিবুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন তার ভাই আলম, আমান উল্লাহ, ছেলে আশিকুর রহমান রনি, আসিফ মোস্তাকের ছেলে রিদুয়ান, আজিজুল হক, সিরাজুল হক, ছলিম উল্লাহ, মোহাম্মদ কালু, সাদ্দাম তার ভাই হোসাইন, নুরুল আলম, মনিরুল আলম, মোর্শেদ, নবী আলম, লোকমান, জাহেদ, ইউনুচ, ফাহিম, শাহিন ও নিশানসহ স্থানীয় আরও অনেকে এবং বাইরের ভাড়াটে লোকজন। হামলার সময় দেড়শ বস্তা সিমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুট করা হয়।

ঢালাই মাঝি কাইয়ুম উদ্দিন নয়ন বলেন, সকালে সব প্রস্তুতি নিয়ে ঢালাই শুরু করতেই হঠাৎ অর্ধশতাধিক লোক হামলা চালায়। তারা শ্রমিকদের মারধর করে প্রেসার মেশিন, নজেল, বেলচা, কড়াই, কোদালসহ ব্যবহৃত সবকিছু নিয়ে যায়। আটটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। ঢালাই মেশিন ভেঙে ফেলে সবকিছু অকেজো করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা সমস্যা থাকলে আলোচনা করা যেত। কিন্তু কোনো কথা না বলে এমন হামলা চালিয়ে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বড় একটি সশস্ত্র দল এলাকায় ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি করে। ভয়ে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হামলাকারীরা শ্রমিক ও বাড়ির লোকজনকে মারধর করে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালায়। পরে রামু ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা সরে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি করা সেন্টারিং কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঢালাই মেশিন টুকরো টুকরো করা হয়েছে। পাশের একটি অস্থায়ী ঘর কেটে নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পুরোনো বাড়িসহ আত্মীয়স্বজনের তিন থেকে চারটি ঘরেও হামলার চিহ্ন রয়েছে।

ভুক্তভোগী ভুলু বলেন, এর আগেও তারা আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। এ নিয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি, যা বর্তমানে বিচারাধীন। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হামলা হয়েছে। পুরো ঘটনার মদদদাতা হিসেবে আমরা তহসিলদার আফসার কামালের নাম পাচ্ছি।

তিনি আরও দাবি করেন, হাবিব আমাদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। এ সংক্রান্ত নোটারি স্ট্যাম্পও আমাদের কাছে আছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাবিবুর রহমান এলাকায় ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে পরিচিত। তাকে সহযোগিতা করেন ভূমি অফিসের তহসিলদার আফসার কামাল। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূমি অফিসের দায়িত্বে থাকার সুযোগে জমির কাগজপত্রের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা তাদের নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে, আর এই হামলা তারই ধারাবাহিকতা। হামলাকারীদের বেপরোয়া আচরণে বোঝা গেছে তারা কোনো ধরনের জবাবদিহিতার ভয় পায় না।

তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে দিয়ে সবকিছু দেখে আসছে। এখনো ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওযা হবে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com