ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মর্মান্তিক এক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চার বছর বয়সী শিশু মরিয়ম আক্তার। ঈদের আনন্দকে ঘিরে যেখানে ছিল নতুন জামা-কাপড়ের প্রস্তুতি, সেখানে এখন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায় মরিয়ম। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ইফতারের আগে বাড়ির পাশের একটি চুলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের মামা হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ঈদকে সামনে রেখে মরিয়মের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনে রেখেছিলেন তার বাবা-মা। তার গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, চেইনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সে চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। তিনি এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে ইয়াছিন মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা সাদ্দাম মিয়াকেও (৩৮) হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় থাকা রূপার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ঈদের আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর