ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মিলন। আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় একদিন আগেই এসে পৌঁছালেন নোয়াখালীর সেনবাগের এক পরিবারের তিন মুসল্লি।
মোহাম্মদ মোস্তফা (৫২), তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন (৪২) এবং ছোট্ট ভাতিজা আয়ান হোসেন (৭) শাহীন—তিনজনের একটাই আকাঙ্ক্ষা—লাখো লাখো মুসল্লির সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। সেই টানেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আগেভাগেই এসে উঠেছেন শোলাকিয়ার বাগে জান্নাত মসজিদে।
কথা বলতে গিয়ে আবেগেময় হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়ার ইচ্ছা অনেক দিনের। এবার আল্লাহ সেই তাওফিক দিয়েছেন। তাই দেরি না করে একদিন আগেই চলে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন এক অন্যরকম শান্তি পাচ্ছি। প্রশাসনও আমাদের খুব ভালোভাবে দেখাশোনা করছে।’
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনের চোখেও তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এত দূরের পথ কষ্ট করে আসার পেছনে একটাই কারণ—শোলাকিয়ার বিশাল জামাতে শরিক হওয়া। এখানে এসে কোনো কষ্ট লাগছে না, বরং মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ আগেই পেয়ে গেছি। কারণ আগে টেলিভিশন ও অনলাইনে লাখ লাখ মুসল্লিকে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেতে দেখতাম। এবার নিজেরাও আদায় করবো’
তবে শুধু এই তিনজনই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একদিন আগেই চলে এসেছেন অনেক মুসল্লি।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মুসল্লিরা যাতে কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবার শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর