ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ মাটি বাণিজ্যের দৌরাত্ম্যে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকারি সড়ক অবকাঠামো। রাতের আঁধার থেকে শুরু করে দিনের বেলাতেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহনে করে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনজীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মালিয়াট, রাখালগাছী, কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, এলাঙ্গী, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিয়মিতভাবে মাটি কেটে পরিবহন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি অবৈধ এ ব্যবসা।
অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণির এক্সকাভেটর (ভেকু) মালিক ও মাটি ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় অবৈধ মাটি বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাটিবাহী ট্রাক্টর ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যানবাহন থেকে কাদামাটি ও ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
গত ৬ জুন কালীগঞ্জ-কোলা সড়কে মাটি পরিবহনের কারণে সড়কের ওপর জমে থাকা কাদামাটি বৃষ্টির পানিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসব দুর্ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সড়কটি পরিষ্কার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেকুর বিকট শব্দ এবং মাটিবাহী যানবাহনের ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ বলেন, রাস্তার বিটুমিনের অন্যতম শত্রু কাদামাটি। নিয়ম না মেনে মাটি পরিবহন করায় সড়কে কাদা জমে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, আমি অসুস্থ আছি। বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিস ও পুলিশ ফাঁড়িকে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন বন্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সড়ক অবকাঠামোর ক্ষতি আরও বাড়বে এবং জনদুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর