দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী।
এছাড়াও তিনি আরোও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা এখন আর কেবল শহরকেন্দ্রিক নয়। আমরা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছি। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে আর্থিক ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই চিকিৎসা পেতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের অগ্রাধিকার স্বাস্থ্যসচিব জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, পুরাতন হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ বৃদ্ধি সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে বহু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে বলে জানান সচিব। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন,কমিউনিটি ক্লিনিক এখন আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি মডেল। এখানে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, মাতৃসেবা এবং শিশুস্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশে কমেছে।মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন সচিব। তিনি জানান, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে দক্ষ ধাত্রী নিয়োগ, মাতৃকালীন ভাতা এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকট ও চ্যালেঞ্জ স্বাস্থ্যখাতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে স্বীকার করেন সচিব। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক সংকট একটি বড় সমস্যা। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে বলে জানান তিনি।আমরা নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছি এবং তাদের গ্রামীণ এলাকায় কাজ করতে উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে যাতে চিকিৎসকরা সেখানে কাজ করতে আগ্রহী হন, বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, দেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল বাড়ানো,গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য।তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হয়। দেশের মধ্যেই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
রবিবার দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোএ চিকিৎসা সেবা,রোগীদের সুযোগ-সুবিধা ও জনবল সংকটসহ নানা বিষয়ে খোঁজ খবর ও পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এসব মন্তব্য করেন।।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা.ফজলে রাব্বি, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ আজাদ,২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর