ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মাত্র চার সপ্তাহে ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ‘উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
Pentagon-এর অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে, বর্তমান ব্যবহারের হার অব্যাহত থাকলে অচিরেই এ অঞ্চলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে বিকল্প হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে আনা কিংবা দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে এবং প্রতিটির খরচ প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ডলার। অথচ গত বছরের বাজেটে মাত্র ৫৭টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।
তবে এসব উদ্বেগকে নাকচ করে দিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে দুর্বল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটও একই সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্ক ক্যানসিয়ান নামের এক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলেন, ৮০০টির বেশি টমাহক ব্যবহারের ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য একটি বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে প্রায় ৩,১০০টি টমাহক ছিল এবং এই ঘাটতি পূরণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে। দীর্ঘপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ১,০০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা যায়।
সূত্র: এনডিটিভি / দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর