কেউ ফাঁসির মঞ্চ থেকে, কেউ গুমের অন্ধকার পেরিয়ে—এভাবে সংসদে আসার মতো ঘটনা বিশ্বে খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ প্রচলিত ধারা থেকে আলাদা এবং এটি একটি ঐতিহাসিক সংসদ। এখানে এমন সদস্য আছেন যারা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন, কেউ গুমের শিকার হয়ে ফিরে এসেছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন কারাভোগ করে নির্যাতিত অবস্থায় সংসদে পৌঁছেছেন। তাঁর মতে, এমন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গঠিত সংসদ দেশের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বেও এটি বিরল।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তাঁর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম সংবিধান, কার্যপ্রণালী বিধি এবং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রীতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর ভাষায়, সংসদে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে তা হতে হবে শালীনতা, যুক্তি ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদ জাতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে।
ডেপুটি স্পিকার মনে করিয়ে দেন, দেশের জনগণ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং মানবাধিকার রক্ষা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের কল্যাণই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বৈঠকের শুরুতে তিনি ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করার কথা জানান। সংসদ সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের আস্থা ও সমর্থনই তাঁকে এ দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)-এর জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জাতির ইতিহাসের সূচনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফল। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং স্বাধীনতার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর