যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনীতিকরা দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) থেকে বের করে আনার জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন। কট্টরপন্থীরা বলছেন, এই চুক্তিতে থেকে ইরানের কোনো বাস্তব লাভ হয়নি।
ইরান পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই চুক্তিতে থাকা এখন অর্থহীন। তেহরানের সংসদ সদস্য মালেক শরিয়াতি জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রস্তাব ইতোমধ্যে উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে NPT থেকে বেরিয়ে আসা এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা বাতিলের বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
এই আইন কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টের পাশাপাশি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর আগে কট্টরপন্থীরা আন্তর্জাতিক চাপের জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবিও তুলেছিল।
এদিকে ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। দেশটির কর্মকর্তারা সংস্থাটিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন, যদিও সংস্থাটি তা অস্বীকার করেছে।
যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে। ইয়াজদের ইউরেনিয়াম স্থাপনা, আরাকের ভারী পানি প্রকল্প এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে IAEA।
ইরানের ইস্পাত শিল্পেও বড় আঘাত হানা হয়েছে। ইসফাহান ও আহভাজের প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের অ-তেল রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং হাজারো কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ফেলেছে।
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে টানা বিমান হামলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক মাস ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশের মানুষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি NPT থেকে বেরিয়ে আসে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর