ইরান সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের প্রস্তাবকে “অবাস্তব, অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই দিনে ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনভিত্তিক Houthi movement গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননের Hezbollah ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরান ও বেইরুতের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে লেবাননের রাজধানীতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা না হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmaeil Baghaei বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—আমরা সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে রয়েছি। তাই আমাদের সব প্রচেষ্টা আত্মরক্ষায় নিবদ্ধ।” এদিকে পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা কম।
ইরান পারমাণবিক অপ্রসারণ চুক্তি (NPT) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে। তবে দেশটি দাবি করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান আরব উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীসহ বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা মাসিক হিসাবে রেকর্ড বৃদ্ধির পথে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিদের হামলার কারণে Bab el-Mandeb Strait-এও শিপিং ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস নৌবাহিনীর কমান্ডার Alireza Tangsiri নিহত হয়েছেন। তবে চার সপ্তাহের টানা হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা সক্রিয় রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ৩,৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১,৫৫০ জন বেসামরিক নাগরিক। লেবাননে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,২৪০, হিজবুল্লাহর অন্তত ৪০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ইরাকে অন্তত ১০০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: Reuters
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর