জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সরকারি নীতিমালাকে উপেক্ষা করে এক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পাশাপাশি দুটি এলএলপি (লো লিফট পাম্প) সেচযন্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার পৌরসভার বাউসী এলাকায় বিষয়টি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত হ্রাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষুদ্রসেচ ইউনিট, সরিষাবাড়ী অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসী উত্তরপাড়া গ্রামের আমীর হোসেন রোকন তার বসতবাড়ির সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরের ভেতরে একই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পাশাপাশি দুটি সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন। দুটি বোরিং থেকে পাইপের মাধ্যমে একসঙ্গে পানি উত্তোলন করে একটি হাউজ ও একক ড্রেনের মাধ্যমে ইরি-বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়টি উপজেলা সেচ কমিটির চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ। পানি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে কৃষি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশলীরা করে আসছেন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ক্ষুদ্রসেচ ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী একটি সেচ পাম্প থেকে অন্যটির ন্যূনতম দূরত্ব ৮২০ ফিট থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই ব্যক্তি কাছাকাছি ৫/৬ ফিট স্থানে একাধিক সেচ পাম্প বসিয়ে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা লাইসেন্স নীতিমালার সরাসরি পরিপন্থী।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমীর হোসেন রোকন দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই দুটি সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা ক্ষুদ্রসেচ ইউনিটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী আবু সাঈদ দেলোয়ার মিন্টু বলেন, “নির্ধারিত দূরত্ব না মানলে লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একাধিক সংযোগ গ্রহণ করে থাকে, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সুপারিশ করা হবে।”
অন্যদিকে, সরিষাবাড়ী বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাহিদ মোহাম্মদ আনোয়ারুজ্জামান জানান, “এক সংযোগে একাধিক সেচ যন্ত্র পরিচালনার বিষয়টি উপজেলা সেচ কমিটির আওতাধীন। তাদের সুপারিশ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর