আজ শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে নামতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর প্রতি আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করায় অন্তর্বর্তী সরকারের যাদের উদ্যোগে এসব অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সরকারকে আলোচনা করতে হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে—এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং তাকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে।
এখন তারা নিজেদের কাজে চলে যাবে তা হবে না। আমি ড. মুহম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, বিএনপি বুঝতেছে না সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসতেছে। এখন সরকার জনগনের হয়ে কথা না বললে তারা টিকতে পারবে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ওমরায় যাওয়ার আগেই তিনি অনুমান করেছিলেন সামনে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, বর্তমান ঘটনাগুলো অপ্রত্যাশিত নয়; বরং ৫ আগস্ট থেকেই এর সূচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা যেখানে সংস্কারের কথা বলেছিলেন, সেখানে বিএনপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়ার পর দলটি এখন কোনো কিছুই গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং গণভোটও মানছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোট হয়নি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। বরং গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার ও সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির অনেক নেতাই অতীতে গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ সেই গুম প্রতিরোধে প্রণীত অধ্যাদেশও বাতিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, এই অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে আইনে পরিণত হলেও বিএনপি অতীতের দায় থেকে মুক্তি পাবে না। গত ১৬ বছর মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি, কারণ জনগণ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। এখন ক্ষমতায় এসে সেই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর