পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের দেড়শো বছরের পুরোনো একটি পুকুর পরিত্যক্ত হওয়ায় এখানকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। একসময় এই পুকুরেই পর্যাপ্ত পানি থাকলেও, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ কলসি হাতে ওই পুকুর পাড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক নাগরিক সংগঠন 'ধরিত্রী রায় আমরা ধরা'-র পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস’র নার্গিস পারভীন মুক্তি, রাজিব হাসান, নিভা তালুকদার, সমির কুলু, শৈলেন মাঝি, শুভঙ্কর মাঝি, কাকলী রানী, জ্যোৎস্না রানী, নুপুর রানী প্রমুখ।
স্থানীয় সমির কুলু ও শৈলেন মাঝি জানান, দীর্ঘ বছর ধরে কালীবাড়ি গ্রামসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির অভাব। প্রতি বছর এ মৌসুমে এখানকার সকল পুকুর শুকিয়ে যায়, ফলে সুপেয় পানির সংকট আরও তীব্র হয়। তাঁদের এই পুকুরটিও ভরাট হয়ে গেছে এবং তাঁরা দীর্ঘ বছর ধরে পুকুর খননের চেষ্টা করেও কোনো সরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে দেখেননি।
নুপুর রানী ও কাকলি রানী নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তাঁদের গৃহস্থালী কাজের জন্য প্রতিদিন পানির প্রয়োজন হয় এবং একমাত্র এই পুকুর থেকেই তাঁরা পানি সংগ্রহ করেন। পুকুরের পানি স্বাস্থ্যসম্মত কিনা জানতে চাইলে তাঁরা জানান, পানি কালো ও লালচে হয়ে গেছে।
ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার জানান, তাঁরা পুকুর খনন ও একটি ফিল্টার স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের বর্ধমান তীব্রতা পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই অবস্থায় সুপেয় পানি সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, যার মধ্যে রয়েছে দ্রুত পুকুর খনন, খননকৃত পুকুরগুলোকে কাঁটাতার বা গাইডওয়াল দিয়ে সংরক্ষণ এবং সৌর বিদ্যুৎ চালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করা। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তাঁরা গ্রামবাসীদের দাবি-দাওয়াগুলো সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর