• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ সেকেন্ড পূর্বে
আবুবকর সম্পদ
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০২ রাত

জবিতে ‘ইউনিয়ন ফি’ ঘিরে কোটি টাকার হিসাব উধাও

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই খাতে দুই নামে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে কোটি টাকার হিসাব গোপনের অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ‘ইউনিয়ন ফি’ ও ‘কেন্দ্রীয় সংসদ ফি’—এই দ্বৈত ফি আদায়কে সরাসরি ‘পকেট কাটার কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ আইন পাস হওয়ার পর প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন করে ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে তার বহু আগে থেকেই ‘বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন ফি’ নামে বছরে ৫০ টাকা করে আদায় চলছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে একই খাতের জন্য দুই নামে অর্থ আদায় অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি সুস্পষ্ট দ্বৈত অর্থ আদায় এবং পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে চাপের মুখে ফেলার একটি কৌশল। অথচ এই অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব বা ব্যয়ের খাত আজও প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। সেই হিসেবে শুধুমাত্র ‘ইউনিয়ন ফি’ থেকেই প্রতি বছর আদায় হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ফি আদায় করা হয়ে থাকলে এখন পর্যন্ত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি প্রশাসন।

একই সঙ্গে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জবির শিক্ষার্থী সংসদ ফি অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলেও অভিযোগ উঠেছে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু) ফি বছরে ৬০ টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাকসু) ফি ৩০ টাকা, সেখানে জবিতে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। তার ওপর অতিরিক্ত ‘ইউনিয়ন ফি’ আদায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “একই খাতের জন্য দুই নামে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আগে ইউনিয়ন ফি ছিলো, এখন আবার কেন্দ্রীয় সংসদ ফি নেওয়া হচ্ছে। তাহলে এই ইউনিয়ন ফি কিসের? প্রশাসন কি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন করছে?”

এ বিষয়ে জবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, “ইউনিয়ন ফি কোন খাতে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আমি নিজেও অবগত নই। এটি পূর্ব থেকেই নেওয়া হয়ে আসছে। ছাত্র সংসদ ফি নেওয়ার পরও কেন এটি নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও আমার স্পষ্ট ধারণা নেই।”

জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, “ছাত্র সংসদ ফি নেওয়ার পরও আলাদা করে ইউনিয়ন ফি নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি আজই জানতে পারলাম।”

ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি একে এম রাকিব বলেন, “ইউনিয়ন ফি এই প্রথম শুনলাম। এটি আদায়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

এদিকে, জবির রেজিস্ট্রার গিয়াসউদ্দিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইস উদ্দীন কে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ‘ইউনিয়ন ফি’ আদায় বন্ধ এবং অতীতের সকল অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন তারা।

মাসুম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com