কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার একমাত্র সাগর ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল বিক্রির মৌখিক নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান।
এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাইকাররা, যা পরবর্তীতে হট্টগোল ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০০ টাকার তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ফিলিং স্টেশন প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার ইউএনও সরেজমিনে পাম্প পরিদর্শন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রির মৌখিক নির্দেশনা দেন।
জানা গেছে, পূর্বে প্রতিদিন মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হতো। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে পাম্প কর্তৃপক্ষ ১০০ টাকার তেল দেওয়া শুরু করলে চালকরা তেল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন ও পাম্প কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।
পাম্প সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দকৃত জ্বালানির পরিমাণ বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম। উলিপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিপুল সংখ্যক চালক প্রতিদিন এই পাম্পে তেল নিতে আসায় সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে সীমিত বরাদ্দ দিয়ে সকল গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে রাত থেকেই পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ১০০ টাকার বেশি তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাইকাররা। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে ১০০ টাকার পেট্রোলে এক লিটার তেলও পাওয়া যায় না, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালকদের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রতুল।
বিক্ষুব্ধ এক চালক রহিম জানান, “উলিপুর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। ১০০ টাকার তেল নিলে বাড়ি ফিরতেই শেষ হয়ে যাবে।
আরেক চালক মেহেদি বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকেই লাইনে আছি। বাইরের উপজেলার বাইকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয়রাও ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসন ও পাম্প কর্তৃপক্ষ বাইকারদের সঙ্গে আলোচনা করে। দীর্ঘ সময় উত্তেজনা চলার পর অবশেষে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পুনরায় তেল বিক্রি স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, “অনেক চালক তেল কিনে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এ কারণে প্রথমে ১০০ টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাধারণ চালকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে পরে ২০০ টাকার তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর