জাতীয় জাদুঘর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকীসহ সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বিপ্লবী ছাত্র-জনতা’ নামে এক প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ছাত্র জনতার ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ হোসাইন বলেন, ‘জাদুঘরের নামে নানানভাবে ছলচাতুরী করে এই সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকী, মেরিনা তাবাসসুম, জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও কথিত সমন্বয়ক তানজিম বিন ওহাব এবং সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) সাদিকুল ইসলাম থেকে শুরু করে আরো একাধিক সংশ্লিষ্ট চোর যারা এই জাদুঘরের ভিতরে তাদের লেসপেন্সারদেরকে নিয়োগ করেছে এবং জাদুঘরের ডিজি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে কমপক্ষে এক থেকে ১২০ কোটি টাকা বিভিন্নভাবে লোপাট করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারা শুধু রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি করেনি, তারা রাষ্ট্রের বুকে পাহারাদার হয়ে রাষ্ট্রের আমানতকে খেয়ানত করেছে। জাদুঘর এই রাষ্ট্রের ও জাতির আমানত। এই জাদুঘরকে, জাদুঘরের স্মৃতিচিহ্নকে তারা বিভিন্নভাবে বিক্রি করে দিয়েছে। বিভিন্নভাবে তারা টেন্ডার করে নিলাম করে তারা তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।’
জুলাইয়ের অন্যতম কুক্ষিগতকারী সন্ত্রাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ হোসাইন বলেন, ‘মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীকে নিয়োগ দিয়েছে আসিফ নজরুল। তার নেতৃত্বে এই মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী থেকে শুরু করে তাদের একটা আলাদা গং তৈরি করেছে। এই নেতৃত্বগুলো এসেছেও আসিফ নজরুল নামের প্রতিষ্ঠান থেকে। এই প্রত্যেকটা কুলাঙ্গারের প্রত্যেকটা জুলাই কুক্ষীগতকারী। তাদের প্রত্যেকের বিচার এই প্রজন্ম বিচার করবে।’
এতে অন্যান্যদের মধ্যে বিপ্লবী ছাত্র জনতার আহ্বায়ক আবু তৈয়ব হাবিলদার, বাংলাদেশ গঠনতান্ত্রিক আন্দোলনের জালিস মাহিমুদসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। এসময় মানববন্ধন থেকে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- উত্থাপিত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত অবিলম্বে শুরু; অভিযুক্ত সকল ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি; তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সম্পদ জব্দ করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর