কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের অবহেলা ও দায়সারা চিকিৎসার অভিযোগে মুবিনা বেগম (৫০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গতকাল (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুবিনা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো হাসপাতালে রেফার করেননি। বরং দীর্ঘ সময় হাসপাতালে রেখে সীমিত ও দায়সারা চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার ছেলে মোরশেদুল আলম বাবলু অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই তার মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। আমরা বারবার চিকিৎসকদের বলেছি যেন তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়। কিন্তু তারা আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি। সময়মতো রেফার করা হলে হয়তো আমার মাকে বাঁচানো যেত।
তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের কিছু না বুঝিয়েই কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার কাছ থেকে একটি ‘রিক্সবন্ড’ (ঝুঁকি স্বীকারপত্র) নিয়ে নেন। তবে এটি কী ধরনের নথি, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এনামুল হক বলেন, মুবিনা বেগম নিয়মিত এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন এবং ঝুঁকি স্বীকার করে (রিক্সবন্ডে) ভর্তি হয়েছিলেন। আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়েছি।
তার দাবি, এখানে কোনো অবহেলা করা হয়নি। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রেফারাল বিলম্বিত হওয়া অনেক সময় প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আলমগীর বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর