কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) হিসেবে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ডলি বেগম। তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি-এর প্রার্থী হিসেবে অন্টারিও প্রদেশের টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে এই উল্লেখযোগ্য জয় অর্জন করেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই সাফল্যে ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ডলি তার কমিউনিটির উন্নত ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অভিজ্ঞতা একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডলি বেগমের এই জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে লিবারেল পার্টিও। দলটি জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন এবং এখন পার্লামেন্টে দলের অংশ হিসেবে আরও বড় দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লিবারেল পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিত্ব করতেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই জয় কানাডার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ডলি বেগম ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কাটান বাংলাদেশেই, পরে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে কানাডার প্রাদেশিক বা ফেডারেল কোনো রাজনৈতিক পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।
রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তিনি অভিবাসন সেবা, বিদেশি শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি এবং নাগরিকত্ব বিষয়ক নানা সমস্যার সমাধানে বিরোধী দলের সমালোচক বা ‘অপজিশন ক্রিটিক’ হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পার্লামেন্টে কাজ করার সুযোগ পান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডলি বেগমের এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। মৌলভীবাজারের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হয়েছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
প্রবাসে বাংলা এর সর্বশেষ খবর