মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে এতদিন নীরব পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকা চীন এখন নতুন করে চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ আরোপের পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। কারণ, চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় অংশই নির্ভর করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে এবং ইরান থেকে আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শুধু ইরান নয়, সরাসরি চীনের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে।
সম্প্রতি একটি চীনা মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার পর চীন কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” এবং এটি সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মার্কিন নৌবাহিনী কোনো চীনা জাহাজকে বাধা দেয় বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা সরাসরি দুই পরাশক্তির মুখোমুখি অবস্থান তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চীন তার নৌবাহিনী (PLA Navy) মোতায়েন করে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ অতিক্রম করানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চীনের নৌ উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। জিবুতিতে অবস্থিত ঘাঁটি থেকে চীনা যুদ্ধজাহাজগুলো গালফ অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং সম্প্রতি ওমান উপসাগরের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, চীন ইরানকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও ডোলান্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—চীন যদি ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দেয়, তবে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের হাতে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, সরাসরি নৌবাহিনী দিয়ে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, তাইওয়ান প্রণালীর মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেওয়া। তৃতীয়ত, কূটনৈতিকভাবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্থগিত করে চাপ প্রয়োগ করা।
তবে এখন পর্যন্ত চীন সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং চীনের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে, বেইজিংকে আরও সক্রিয় ও কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, হরমুজ ইস্যু এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।
সূত্র: India Today.
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর