মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের দিকে ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বুধবার (৭ই জুন) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। হামলার পরপরই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর কয়েক মিনিট আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল তারা।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে ইসরায়েলের হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। হামলার পরপরই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং ইসরায়েলকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন।
ইসরায়েলের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যার মধ্যে আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে—ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে হামলার খবর প্রচার করা হলেও বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আগামী কয়েক ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সর্বশেষ খবর