ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান।
তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এনাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন- ফার্মাকোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের দুই প্রধান। কমিটিকে আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বক্তব্য জানতে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। দুইজনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মুয়াজ মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
রাত ৯টার দিকে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি
গুরুতর আহত মুয়াজ ও মীর হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। হামিদুর হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। এই দুইজনকেই মাথায় আঘাত করা হয়েছে।
মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।
এ ঘটনায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী সাতদিনের জন্য সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর