গরমের সময়ে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং সুস্থ থাকার জন্য দই বা টকদই অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দই রাখলে শরীর ও পাচনতন্ত্রে নানা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদ ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই এ সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।
এই ধরনের সমস্যা এড়াতে এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং তাপজনিত অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। দই সে ক্ষেত্রে একটি আদর্শ বিকল্প। এটি শুধু হজমশক্তি বাড়ায় না, শরীরকে শীতল রাখে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দই একটি পুষ্টিকর দুগ্ধজাত খাবার, যা ল্যাকটোব্যাসিলাস বুলগারিকাস ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাস নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি হয়। দুধকে প্রক্রিয়াজাত করে এটি প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ একটি ক্রিমি ও হালকা টক স্বাদের খাবারে রূপান্তরিত করা হয়।
এসব পুষ্টিগুণের কারণে গ্রীষ্মকালে নিয়মিত দই খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী এবং এটি সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, গ্রীষ্মে দই খেলে আমরা কী কী উপকার পেতে পারি—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবডির উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে, যা আপনার শরীরের সংক্রমণ ও রোগ সৃষ্টিকারী এজেন্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন— ডায়েটে নিয়মিত দই রাখুন। এতে শরীরের ইমিউনিটি বাড়বে।
দই খেলে পেট ভরা থাকে। ফলে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া গ্রীষ্মের দিনে দই খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এটি খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং তাপজনিত সমস্যা কমে যায়। আর দই হিটস্ট্রোক এবং তাপের কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। দইয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি নিয়মিত খেলে আপনার চুল পুষ্টি পাবে এবং চুল পড়া ও শুষ্কতা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। এর পাশাপাশি এটি আপনার ত্বককে শুষ্ক হতেও বাধা দেয়।
দই ভিটামিন ও খনিজপদার্থে সমৃদ্ধ। যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি১২। দই খেলে আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এক কাপ দইয়ে ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
আর দই খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর প্রোটিন ও চর্বি উপাদান, যা কার্বোহাইড্রেটের হজমকে ধীর করে দেয়। রক্তের প্রবাহে চিনির এই ধীরে ধীরে মুক্তি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করে। তাই দই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। কারণ এটি স্থিতিশীল গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর