ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে ‘গুপ্ত’ দেয়াললিখন ঘিরে ইসলামি ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুটি পৃথক ঘটনা ৬ সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
এদিকে ছাত্রদল বলছে, সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনাটি নিতান্তই ভুল বুঝাবুঝি থেকে হয়েছে, শিগগিরই দু’পক্ষের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। এদিকে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এইদিন রাতে বিজয় ৭১ হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। এ সময় প্রাইম বাংলাদেশের ঢাবি প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাতকে ভিডিও করতে বাঁধা দেন ছাত্রদল কর্মী নাভিদ আনজুম নিভান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এসময় ভুক্তভোগী সাংবাদিক সিফাত নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও নিভান তাকে ভিডিও ধারণে বাঁধা দিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।’ এ সময় সাংবাদিক সমিতির আরো দুই সদস্য- দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান ও নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলাম প্রতিবাদ জানালে তারাও হেনস্তার শিকার হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে একই দিন গভীর রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলেও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আরো সাংবাদিক কা লের কণ্ঠের প্রতিনিধি মানজুর হোসাইন মাহি, ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন এবং সদস্য সজীব আহমেদকে হেনস্তা করা হয়।
হেনস্তার শিকার ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমন বলেন, ‘আমরা তিনজন রুমে গিয়ে হাউজ টিউটরকে পরিচয় দেই। তখন পাশ থেকে একজন বলেন, হলের ইস্যু, বাইরে থেকে কেন আসছে। এরপর কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী আমাদের দিকে তেড়ে আসেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার সময় হাউজ টিউটর মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই আমাদের হেনস্তা করা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়।’
এদিকে শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সাংবাদিকরা আসছিলেন। যেহেতু শিক্ষার্থীরা তাদের চিনত না, আমার ধারণা, তখন পেছনে থাকা কয়েকজন শাউট করেছে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন ঘটনার পরপরই রাত ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উপাচার্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সেক্রেটারি নাহিদুজ্জামান শিপন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখানে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সাংবাদিক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা দ্রুতই পারস্পরিক আলোচনায় বসে সমাধান করব।’
ডাকসুর প্রতিবাদ: সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহাঃ মহিউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্টদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।’
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর