গল্প কেবলই বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু—এই বিশ্বাস বুকে লালন করেন জুবায়ের। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিন থেকে সদ্য গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা এই তরুণ গল্পের ভেতরেই খোঁজেন জীবনের পরম বাস্তবতা। প্রকৃতিকে সঙ্গী করে চারপাশের চেনা ছবি আর জীবনের বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তোলাই তার অন্যতম কাজ। ক্যাম্পাস জীবনের চঞ্চল অনুভূতি, ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আর যাপিত জীবনের ছোট ছোট গল্প সহজ-সরল ভাষায় তিনি মানুষের কাছে উপস্থাপন করছেন তার ফেসবুক পেজ 'যা ইচ্ছে তাই'-এর মাধ্যমে।
জুবায়েরের এই পথচলার শুরুটা হয়েছিল ডায়েরি লেখার প্রবল ইচ্ছা থেকে। ব্যক্তিগত অনুভূতি আর জীবনের সোনালী মুহূর্তগুলোকে শব্দের ফ্রেমে বন্দি করার চেষ্টা করতেন তিনি। সময়ের আবর্তে সেই ডায়েরির পাতাই এখন রূপ নিয়েছে প্রাণবন্ত গল্পে। দীর্ঘদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টা আর নীরব সাধনার ফসল তার আজকের এই ‘গল্প বলার’ (Storytelling) যাত্রা। ২০১৩ সাল থেকে ছবি তোলার প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করেন তিনি, যা ২০১৭ সালে এসে রূপ নেয় ভিডিও নির্মাণে। আর ২০২৫ সালে এসে নিজের সেই সব পূর্ব-অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে এক সুতোয় বেঁধে শুরু করেন পূর্ণাঙ্গ গল্প বলা। ছবি, ভিডিও ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে মিলিয়ে তিনি এখন তুলে ধরছেন তার নিজের জীবন, প্রকৃতি ও বিচিত্র অনুভূতির আখ্যান।
ভ্রমণপ্রিয় জুবায়ের বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প এবং নিজের অভিজ্ঞতাগুলো দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করেন। আর এই সরল উপস্থাপনার কারণেই অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শক নিজেদের জীবনের সাথে জুবায়েরের গল্পের এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পান। বাস্তব চিত্র তুলে ধরার এই অভিনব প্রচেষ্টা খুবির শিক্ষার্থীদের মাঝেও বেশ আনন্দ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
ক্যাম্পাসের এই পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছে গল্প বলার পেছনের রহস্য জানতে চাইলে তিনি ‘দৈনিক বিডি২৪ লাইভ নিউজ’-কে বলেন,"করোনাকালে যখন আমার ইউটিউব চ্যানেলটি হ্যাক হয়ে যায়, তখন আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম এবং নতুন করে জীবনের লক্ষ্য খুঁজতে শুরু করি। নানা বাধা-বিপত্তি, প্রেম, ভর্তি পরীক্ষার জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাতে আমি নিজেকে কেবল পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ রাখিনি; ভ্রমণ, টিউশনি, ভিডিও নির্মাণ, বিতর্কসহ নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছি। একসময় সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করলেও সেখানে সফল হতে পারিনি। ঠিক তখনই আমি উপলব্ধি করি যে, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আসলে সিনেমাটোগ্রাফি নয়, আমার শক্তি হলো গল্প বলা।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি বিশ্বাস করি, দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজের সত্যিকারের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকেই গল্প বলা উচিত। জীবনের প্রতিটি ধাক্কা, ব্যর্থতা এবং অর্জিত দক্ষতাই আজ আমার গল্প বলার মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দিনশেষে কেবল ভালো ফলাফল নয়; বরং অভিজ্ঞতা, অধ্যবসায় এবং নিজের প্রতি অবিচল বিশ্বাসই একজন মানুষকে তার স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে।"
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর