বগুড়ার মফস্বল থেকে আগামীর ‘জাতীয় তারকা’ খুঁজে বের করার এক মহতী কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হলো। আজ শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী শেরপুর সরকারি ডি.জে. মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট ট্যালেন্ট হান্ট ২০২৬’।
সামাজিক উদ্যোগ ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’-এর আয়োজনে এই ক্যাম্পে উপজেলার প্রায় ৭০০ জন কিশোর ক্রিকেটার তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করে। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও খ্যাতিমান ক্রিকেট সংগঠক খালেদ মাহমুদ সুজন নিজে উপস্থিত থেকে এই বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমির সহযোগিতায় দিনভর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের পর প্রথমে ৫০ জনকে এবং সবশেষে সেরা ১০ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। মাঠে দাঁড়িয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, মফস্বল এলাকায় প্রতিভার অভাব নেই, অভাব শুধু সঠিক সুযোগের। এখান থেকেই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তারকা বেরিয়ে আসা সম্ভব। এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক সাহসী পদক্ষেপ।"
আয়োজক ও তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা আসিফ সিরাজ রব্বানী সকালে বাছাই প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন। তিনি ঘোষণা দেন, নির্বাচিত ১০ জন ক্রিকেটার রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে দুই বছরের উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ ক্রীড়া বৃত্তি। আসিফ সিরাজ রব্বানী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "আমরা ক্রমান্বয়ে এই জনপদকে ক্রিকেটার তৈরির হাবে পরিণত করতে চাই। নির্বাচিতদের বাইরেও যারা ভালো করেছে, তাদের একটি বিশেষ প্যানেলে রাখা হবে। কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্থানীয়ভাবে দক্ষ কোচের ব্যবস্থাও করা হবে।"
বিকালে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোঃ সিরাজ। তিনি উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বলেন, "তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। উন্নত সমাজ গঠনে শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।" অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু, ওসি এসএম মঈনুদ্দীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক আবদুল মুক্তাদির। পুরো আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আজকের এই ১০ জন কিশোরই একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে সমুন্নত করবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর